Ws Tree With Red Fruits 1024x768

দুরুদ শরীফ সংক্রান্ত কিছু সূক্ষ্ম কথা

উৎস:
ইসলাহী নেসাব: যাদুস সাঈদ
হাকীমুল উম্মত মুজাদ্দিদে মিল্লাত, মাওলানা আশরাফ আলী থানভী (র:)

এক. একটি প্রশ্ন প্রসিদ্ধ আছে যে, কামা সাল্লাইতা-এর মধ্যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ‘সালাত’কে ইবরাহীম (আঃ)এর ‘সালাতের’ সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ করা হয়েছে। আর যার সঙ্গে সাদৃশ্য করা হয় তা যাকে সাদৃশ্য করা হয় তার চে’ পরিপূর্ণ হয়। এতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ‘সালাত’ ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়। এ প্রশ্নে সহজ ও সংক্ষিপ্ত উত্তর এই যে, যার সঙ্গে সাদৃশ্য করা হয়, তা অধিক পরিপূর্ণ হওয়া জরুরী নয়, তবে অধিক সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ হওয়া জরুরী। তাই ইবরাহীম (আঃ)-এর ’সালাত’ যেহেতু সমস্ত উম্মত, ধর্ম ও আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ও স্বীকৃত ছিলো, তাই তার সঙ্গে সাদৃশ্য করা হয়েছে।
দুই. সমস্ত নবীর উপরই সালাত ও সালাম অবতীর্ণ হয়েছে, তাহলে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের সঙ্গে কেন নির্দিষ্ট করা হলো! তার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে।
প্রথমতঃ আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শরীয়ত এবং হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামের শরীয়তের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। অন্যান্য নবীর শরীয়তের সঙ্গে শুধু মূলনীতির মধ্যেই মিল রয়েছে, কিন্তু ইবরাহীম আলাইহিস সালামের শরীয়তের সঙ্গে অনেক শাখার মধ্যেও মিল রয়েছে। এ জন্যই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-’নিশ্চয় সমস্ত মানুষের মধ্যে ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)এর সঙ্গে অধিক বৈশিষ্ট্যপূর্ণ তারা, যারা তার অনুসরণ করেছিলো, আর এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং এই ঈমানদারগণ।’ (সূরা আলে ইমরান-৬৮)
দ্বিতীয় কারণ এই যে, মেরাজের রাতে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিলেন যে, আপনি আপনার উম্মতকে সালাম বলবেন। তাই উম্মতকে হুকুম করা হয়েছে যে, নামাযের মধ্যে ’সালাতে ইবরাহীমী’ অন্তর্ভুক্ত করো এবং বাইরেও তা পাঠ করো।
তৃতীয় কারণ এই যে, হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এ উম্মতের উপর অনেক দয়া করেছেন। কারণ, তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নবীরুপে পাঠানোর জন্য দু’আ করেছিলেন।
তিন. আাল্লাহ তাআলা সল্লূ ’আলাইহি আয়াতে আমাদেরকে ‘সালাত’ পাঠানোর হুকুম করেছেন, তাই বাহ্যত বলা সমীচীন মনে হয়, অথচ আমাদেরকে আল্লাহুম্মা সাল্লি বলা শেখানো হয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহর কাছেই সালাত পাঠানোর জন্য দরখাস্ত করা হয়-এর হিকমত কি?
এর হিকমত এই যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন সম্পূর্ণ পবিত্র, আর আমরা হলাম অপবিত্র, তাই আমাদের সালাত তার শান মোতাবেক হতো না। তাই আল্লাহ তাআলার কাছে ‘সালাত’ নাযিল করার দরখাস্ত করে যেন এ কথাই বলা হয় যে, হে আল্লাহ! আমাদের ’সালাত’ তো হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানের উপযোগী নয়, তাই আমরা আপনারই নিকট দরখাস্ত করছি-আপনি আপনার পক্ষ থেকে ‘সালাত’ নাযিল করুন। তাহলে পবিত্র নবীর উপর পবিত্র রবের পক্ষ থেকে ‘সালাত’ হবে।
চার. শাইখ আবূ সুলাইমান দারানী (রহঃ) বলেন যে, দু’আর পূর্বে ও পরে দুরুদ শরীফ পড়ো। কারণ, আল্লাহ তাআলা উভয় দিকের দুরুদ তো অবশ্যই কবুল করবেন। আর এটা তার দয়ার বিপরীত যে, তিনি উভয় দিকের দুরুদ কবুল করবেন, আর মাঝেরটা (দু’আ) ফিরিয়ে দিবেন।
পাঁচ. হাদীস শরীফের সুস্পষ্ট উল্লেখ দ্বারা যেমন জানা যায় যে, একবার দুরুদ শরীফ পাঠ করলে দশটি রহমত নাযিল হয়, তেমনিভাবে কুরআন শরীফের ইশারা দ্বারা এও বোঝা যায় যে, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহান মর্যাদায় একটি বেয়াদবী করলে তার উপর আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে দশটি লা’নত নাযিল হয় (নাউযুবিল্লাহ)। তাই ওলীদ বিন মুগীরার উপহাসের শাস্তিস্বরুপ আল্লাহ তাআলা এ দশটি কথা ইরশাদ করেছেন-’অধিক শপথকারী, হীন, খোটাদানকারী, কূটনামী করে বেড়ায়, নেক কাজে বাধা দানকারী, সীমালংঘনকারী, পাপী, রূঢ়, হারামজাদা, আয়াতকে অস্বীকারকারী।’ (সূরা কলম ১০-১৫)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *